ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে সময় ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে, কোথা থেকে শুরু করবেন এবং কোন পথে এগোবেন, তা এই লেখায় ধাপে ধাপে বুঝে নিতে পারবেন।
দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের মানসিক প্রশান্তি ও পারস্পরিক তৃপ্তি। কিন্তু অনেক পুরুষই সময় ও নিজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নীরবে দুশ্চিন্তা বয়ে বেড়ান। বিভিন্ন জরিপে বহু পুরুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় এই অভিজ্ঞতার কথা জানান। অর্থাৎ আপনি একা নন।
অনেকে ভাবেন, এর একমাত্র সমাধান হয়তো কোনো অলৌকিক ওষুধ, স্প্রে বা ম্যাজিক ট্রিক। কিন্তু যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় একটি কথা বারবার আসে: শারীরিক কোনো জটিল রোগ না থাকলে দ্রুত বীর্যপাত মানেই স্থায়ী অক্ষমতা বা ব্যর্থতা নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি শরীরের সংকেত (Arousal Signal) বুঝতে না পারা এবং নিয়ন্ত্রণের কৌশল (Self Regulation Skill) শেখা না থাকার বিষয়। আর যা শেখা যায়, তা ধীরে ধীরে উন্নত করাও যায়।
এখানে "বীর্য ধরে রাখা" বলতে ক্ষতিকর উপায়ে বীর্য আটকে রাখা বোঝানো হচ্ছে না। এর অর্থ সহবাসের সময় নিজের সুবিধামতো সময় ও বীর্যপাতের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা। সহবাসে বীর্য ধরে রাখার উপায় বা দ্রুত বীর্যপাত কমানোর উপায় হিসেবে যৌন থেরাপিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত তিনটি পদ্ধতি হলো:
অনেকে ইন্টারনেটে "বীর্য ধরে রাখা" লিখে সার্চ করলে আসলে বীর্যপাত দেরি করার উপায় (Delaying Ejaculation) খুঁজছেন। অন্যদিকে "বীর্য ধারণ" (Semen Retention) নামের কিছু ধারণায় বীর্যপাত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কথা বলা হয় এবং এতে শক্তি বাড়ে বলে দাবি করা হয়। এই দাবির পক্ষে জোরালো বৈজ্ঞানিক সমর্থন পাওয়া যায় না।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বীর্যপাত একটি স্বাভাবিক শারীরিক সাড়াদান প্রক্রিয়া। তাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহবাসের সময় ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্বস্তি পাওয়া, জোর করে কিছু আটকে রাখা নয়।
অনেকে পর্নোগ্রাফি বা কাল্পনিক গল্প দেখে ধরে নেন, স্বাভাবিক সহবাস ২০ থেকে ৩০ মিনিট স্থায়ী হওয়া উচিত। গবেষণায় প্রকৃত চিত্র কিন্তু ভিন্ন। ডক্টর ওয়ালডিঙ্গারের (Waldinger, 2005) পাঁচ দেশের গবেষণায় দেখা গেছে, যোনিতে প্রবেশ থেকে বীর্যপাত পর্যন্ত সময়ের (IELT) মধ্যমান প্রায় ৫.৪ মিনিট। ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে এটি কম বা বেশি হতে পারে।
সময়: ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বা তার বেশি।
ভিত্তি: শুধু সময় দিয়ে পারফর্ম করা।
সময়: মধ্যমান প্রায় ৫.৪ মিনিট।
ভিত্তি: নিজের আরাম, নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক প্রশান্তি।
তাই শুধু "কত মিনিট" মাপার চেয়ে বেশি জরুরি প্রশ্ন হলো, প্রয়োজন হলে আপনি নিজের গতি কমাতে বা থামতে পারছেন কি না। সময় কিছুটা থাকলেও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মানসিক চাপ রয়েই যায়।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর সেক্সুয়াল মেডিসিন (ISSM) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) আলোচনায় দ্রুত বীর্যপাতকে প্রধানত দুই ভাগে দেখা হয়:
দুই ক্ষেত্রেই তিনটি বিষয় একসঙ্গে দেখা হয়: সময় বারবার খুব কম হচ্ছে কি না, বীর্যপাতের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আছে কি না, এবং এর কারণে মনঃকষ্ট, এংজাইটি বা দাম্পত্যে চাপ তৈরি হচ্ছে কি না।
একটি কথা মনে রাখা জরুরি: একবার বা দুইবার দ্রুত হয়ে যাওয়া মানেই বড় সমস্যা নয়। ক্লান্তি, দীর্ঘ বিরতি, অতিরিক্ত উত্তেজনা বা মানসিক চাপেও এমন হতে পারে। বিষয়টি বোঝার দরকার হয় তখনই, যখন এটি বারবার ঘটে এবং আপনাকে কষ্ট দেয়।
এটি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না। শরীর, মন, অভ্যাস ও সম্পর্কের চাপ মিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পুরুষের উত্তেজনার একটি নির্দিষ্ট স্তর আছে, যেখানে পৌঁছালে বীর্যপাত আর থামানো সম্ভব হয় না। একে বলা হয় "পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন" বা ইজাকুলেটরি ইনেভিটাবিলিটি (Ejaculatory Inevitability)। শরীরের ভেতরে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে গেলে মস্তিষ্ক বুঝে ফেলে, এখন আর ফেরার উপায় নেই।
অনেকে এই বিন্দুটি চিনতেই পারেন না। শেষ কয়েক সেকেন্ডে এসে বোঝেন, আর থামানো যাচ্ছে না। অথচ শরীর আগেই সংকেত দেয়: শ্বাস বদলে যায়, পেশি টান টান হয়, তলপেটে চাপ বাড়ে। নিয়ন্ত্রণ শেখার মূল চাবিকাঠি হলো এই বিন্দুতে পৌঁছানোর ঠিক আগে সংকেত চিনে থামা বা গতি কমানো।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। নিয়ন্ত্রণ মানে জোর করে নিজেকে আটকে রাখা নয়। নিয়ন্ত্রণ মানে নিজের উত্তেজনা, শ্বাস ও অনুভূতি চিনে সঠিক সময়ে সাড়া দেওয়া। আর এই চেনার দক্ষতা এলোমেলো টিপস মুখস্থ করে আসে না, আসে একটি গোছানো ক্রমে অনুশীলন করলে।
১৯৫৬ সালে ইউরোলজিস্ট ডক্টর জেমস সেমানস (Dr. James Semans) এই পদ্ধতির প্রবর্তন করেন। মূল উদ্দেশ্য হলো উত্তেজনার স্কেল চেনা এবং পয়েন্ট অফ নো রিটার্নে পৌঁছানোর আগেই গতি ধীর করা বা সাময়িক বিরতি নেওয়া।
খুব দেরিতে থামা, অর্থাৎ পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন পার হওয়ার পর থামার চেষ্টা।
সমাধানউত্তেজনার স্কেল ৭ বা ৮ এর আগেই থামুন।
থামার পর ইরেকশন কমে যাওয়ায় আতঙ্কিত হওয়া।
সমাধানইরেকশন কিছুটা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। শান্ত থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই তা আবার ফিরে আসে।
ক্লিনিক্যাল সেক্স থেরাপিতে এটি সবচেয়ে পরিচিত ও বহুল আলোচিত কৌশলগুলোর একটি। অনুশীলনের মাধ্যমে অনেক পুরুষ নিজের শরীরের সংকেত পড়তে শেখেন। তবে ফলাফল ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
১৯৭০ সালে সেক্স গবেষক মাস্টার্স ও জনসন (Masters and Johnson) স্কুইজ পদ্ধতির ধারণা দেন। এটি স্টপ স্টার্ট পদ্ধতিরই একটি রূপান্তর, যেখানে শুধু থামার বদলে লিঙ্গের নির্দিষ্ট স্থানে আঙুল দিয়ে মৃদু চাপ দেওয়া হয়।
যৌন থেরাপিতে এর বহুদিনের ব্যবহার থাকলেও অনেক পুরুষের কাছে এটি কিছুটা যান্ত্রিক মনে হতে পারে। সেজন্য অনেক চিকিৎসক স্কুইজের চেয়ে স্টপ স্টার্ট বা কেগেলকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক মনে করেন।
মলদ্বার ও অণ্ডকোষের মাঝামাঝি অঞ্চলে অবস্থিত পেলভিক ফ্লোর বা পিসি মাসল (Pubococcygeal Muscle) বীর্যপাতের ছন্দময় সংকোচনের সঙ্গে যুক্ত। এই পেশির ওপর ভালো দখল তৈরি হলে বীর্যপাতের রিফ্লেক্স সামলানো সহজ হতে পারে। তবে শুধু শক্ত করাই উদ্দেশ্য নয়। শক্ত করা ও পুরোপুরি শিথিল করা, দুটোরই সচেতনতা দরকার।
চিত হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু ভাঁজ করুন। কল্পনা করুন, আপনি হঠাৎ প্রস্রাব বা বায়ুর চাপ থামাতে চাইছেন। সেই মুহূর্তে ভেতর থেকে যে পেশিটি চেপে ধরে, সেটিই আপনার পেলভিক ফ্লোর পেশি। কেউ কেউ চেনার জন্য একবার প্রস্রাবের মাঝপথে থামানোর কথা বলেন। এটি শুধু পেশি চেনার জন্য। নিয়মিত অনুশীলন হিসেবে প্রস্রাব আটকে রাখা ক্ষতিকর হতে পারে।
সাধারণ ভুল: পেট, কোমর, নিতম্ব বা উরুর পেশি শক্ত করা, অথবা শ্বাস আটকে রাখা। এতে আসল পেশির অনুশীলন হয় না।
২০১৪ সালে Therapeutic Advances in Urology জার্নালে প্রকাশিত পাস্টোর ও সহকর্মীদের একটি গবেষণায় লাইফলং দ্রুত বীর্যপাতে ভোগা ৪০ জন পুরুষকে ১২ সপ্তাহ নিয়মিত পেলভিক ফ্লোর পুনর্বাসন অনুশীলন করানো হয়। শেষে ৩৩ জন (৮২.৫%) বীর্যপাতের ওপর ভালো নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পেরেছিলেন। তবে এটি একটি ছোট দলের গবেষণা, তাই সবার ক্ষেত্রে একই ফল ধরে নেওয়া যায় না। ফলের সময়ও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন। প্রথম সপ্তাহেই বড় পরিবর্তনের আশা না করাই বাস্তবসম্মত।
গবেষণাটি দেখতে চাইলে: Pastore ও সহকর্মী, ২০১৪, Therapeutic Advances in Urology
| বিষয় | স্টপ স্টার্ট পদ্ধতি | স্কুইজ পদ্ধতি | কেগেল ব্যায়াম |
|---|---|---|---|
| অনুশীলনের সময় | ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে বা একা অনুশীলনে | ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে | যেকোনো সাধারণ সময়ে, প্রতিদিন |
| সঙ্গীর সাহায্য | একা বা সঙ্গীসহ করা যায় | সঙ্গীর সহযোগিতা প্রয়োজন | সম্পূর্ণ একা করা যায় |
| মূল ধারণা | উত্তেজনার স্কেল চিনে বিরতি নেওয়া | মৃদু চাপে উত্তেজনার বেগ কমানো | তলপেটের পেশির নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো |
| একসাথে ব্যবহার | হ্যাঁ, ধাপে ধাপে | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকলে গভীর ও ধীর পেটের শ্বাস (Diaphragmatic Breathing) স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে এবং পেশির চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
শুরুর দিকে এমন পজিশন, যেখানে পুরুষের শারীরিক সক্রিয়তা ও চাপ তুলনামূলক কম থাকে, যেমন ওমেন অন টপ বা রিভার্স কাউগার্ল, নিজের উত্তেজনা পর্যবেক্ষণ করা সহজ করতে পারে। পজিশন বদলানোর সময় স্ত্রীর স্বাচ্ছন্দ্যের দিকেও খেয়াল রাখুন।
ঘড়ি ধরে সময় মাপার মানসিকতা ছেড়ে সঙ্গীর স্পর্শ ও ঘনিষ্ঠতার আনন্দে মন দিন। পারফরমেন্সের চাপ কমলে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই বীর্যপাত দেরি হয়।
কিছু ক্ষেত্রে কনডম সংবেদনশীলতা কিছুটা কমায়, যা সময় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত ঘুম, ধূমপান পরিহার এবং দুশ্চিন্তা কমানোর অভ্যাস সামগ্রিক যৌন স্বাস্থ্যের ভিত্তি মজবুত করে।
এতক্ষণ আপনি তিনটি পরিচিত কৌশল, শ্বাসের অভ্যাস, পজিশন আর মানসিক চাপ নিয়ে জানলেন। এবার একটি বাস্তব প্রশ্ন: এগুলো কি আলাদা আলাদা টিপস, নাকি একটি সিস্টেমের অংশ?
অনেকেই এভাবে চেষ্টা করেন। কেউ কয়েকদিন কেগেল করেন, কেউ ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে শ্বাসের কথা মনে রাখার চেষ্টা করেন, কেউ মন অন্যদিকে ব্যস্ত রাখেন, কেউ পজিশন বদলান, আবার কেউ প্রতিবার সময় মাপেন। প্রতিটি চেষ্টা আলাদাভাবে যুক্তিসংগত। কিন্তু কোনটি প্রতিদিনের অভ্যাস, কোনটি মুহূর্তের আগে আর কোনটি চলাকালীন, এই ক্রম পরিষ্কার না থাকলে ফলও এলোমেলো হতে পারে।
একটি গোছানো পথে তিনটি প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার থাকে: কী করবেন, কখন করবেন এবং কীভাবে করবেন। সঙ্গে থাকে নিজের অগ্রগতি বোঝার একটি সহজ উপায়। এতে অনুমান ও এলোমেলো চেষ্টার জায়গায় আসে একটি অনুসরণযোগ্য ক্রম।
অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে আলোচনার অভাবই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। স্ত্রীকে দোষারোপ না করে এবং নিজেকেও অপরাধী না ভেবে খোলামেলা কথা বলা জরুরি। একটি শান্ত সময় বেছে নিন। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ঠিক আগে বা পরে কথা তুললে চাপ আরও বাড়তে পারে। আপনি যখন স্ত্রীকে বিচারক নয়, সহযাত্রী হিসেবে সঙ্গে নেন, তখন চাপ অনেকটাই কমে আসে।
"আমি আমাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলোকে আরও সুন্দর ও চাপমুক্ত করার জন্য কিছু প্র্যাকটিক্যাল গাইড মেনে চলছি। তোমার সহযোগিতা থাকলে আমার জন্য খুব সহজ হতো।"
"আমরা কোনো তাড়াহুড়ো না করে ধীরগতিতে একে অপরের স্বাচ্ছন্দ্য দেখে এগোতে পারি।"
| সপ্তাহ | অনুশীলনের মূল ফোকাস |
|---|---|
| ১ম সপ্তাহ | প্রতিদিন কেগেল ব্যায়াম শেখা এবং স্ত্রীর সঙ্গে শান্ত মনে কথা বলা |
| ২য় সপ্তাহ | একা স্টপ স্টার্ট অনুশীলন করে উত্তেজনার স্কেল চেনা |
| ৩য় সপ্তাহ | ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে গভীর শ্বাস নেওয়া ও কম চাপের পজিশন বেছে নেওয়া |
| ৪র্থ সপ্তাহ ও পরবর্তী | স্টপ স্টার্ট ও কেগেল একসাথে প্রয়োগ করে অগ্রগতি দেখা |
রাতারাতি ফলাফলের আশা না করে নিজের শরীরকে সময় দিন। একদিন ভালো না গেলে "কিছুই কাজ করছে না" ভেবে ছেড়ে দেবেন না। শুধু সময় নয়, নিয়ন্ত্রণ, শান্ত ভাব, আত্মবিশ্বাস ও স্বস্তির ছোট উন্নতিও অগ্রগতি।
এই সপ্তাহভিত্তিক ছকটি একটি সাধারণ নমুনা। ইবুকের ৭ দিনের প্র্যাকটিস প্ল্যান আরও ছোট ও নির্দিষ্ট ধাপে সাজানো। যেমন তার প্রথম দিনের কাজ কোনো কৌশল প্রয়োগ নয়, বরং নিজের ভয়, চাপ ও প্রত্যাশা চিনে নেওয়া।
বীর্য আটকে রাখলে শক্তি বাড়ে।
বাস্তবতাবীর্যপাত একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। এই দাবির জোরালো বৈজ্ঞানিক সমর্থন নেই।
অলৌকিক ক্রিম বা স্প্রে স্থায়ী সমাধান।
বাস্তবতাবিজ্ঞাপনের বড় বড় দাবিতে সতর্ক থাকুন। এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণ শেখায় না। প্রয়োজনে চিকিৎসক নির্দিষ্ট চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। অজানা পণ্য নিজে নিজে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
ঘরোয়া খাবার খেলে সময় রাতারাতি বাড়ে।
বাস্তবতাসুষম খাদ্য সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কিন্তু এটি কোনো ম্যাজিক নয়।
সময় বাড়লেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
বাস্তবতানিয়ন্ত্রণ, আরাম, আত্মবিশ্বাস ও স্ত্রীর সঙ্গে সংযোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সব সমস্যা নিজে নিজে অনুশীলনের বিষয় নয়। কিছু লক্ষণ থাকলে আগে চিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এটি ভয়ের বিষয় নয়, নিজের শরীরকে সম্মান করার বিষয়।
কার কাছে যাবেন: লজ্জা না পেয়ে একজন নিবন্ধিত ইউরোলজিস্ট (Urologist) বা এন্ড্রোলজিস্টের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে চিকিৎসক পেশাদার কাউন্সেলিং, মানসিক উদ্বেগ কমানোর থেরাপি বা নির্দিষ্ট মেডিকেল চিকিৎসার নির্দেশনা দিতে পারেন। মনে রাখবেন, এই লেখা বা কোনো ইবুক চিকিৎসকের বিকল্প নয়।
সবার ক্ষেত্রে একই ফল হয় না। শারীরিক কোনো জটিল রোগ না থাকলে অনেকেই সঠিক মানসিক প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক অনুশীলনে নিয়ন্ত্রণে উন্নতি দেখেন। তবে এর কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। সমস্যা না কমলে বা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আগে উল্লেখ করা গবেষণায় ১২ সপ্তাহ নিয়মিত অনুশীলন করানো হয়েছিল। তাই কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস ধৈর্য ধরে সঠিক নিয়মে করাই বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা। প্রথম সপ্তাহেই বড় পরিবর্তন আশা করবেন না।
কিছু ক্ষেত্রে কনডম লিঙ্গের সংবেদনশীলতা কিছুটা কমায়, যা সময় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে এটি একইভাবে কাজ করে না, আর এটি নিয়ন্ত্রণ শেখার বিকল্পও নয়।
শান্ত একটি সময় বেছে নিন এবং কোনো চাপ বা অভিযোগ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে নিজের ইচ্ছা ও চেষ্টার কথা জানান। "আমরা একসঙ্গে শিখছি", এই মনোভাব নিয়ে কথা বললে আলোচনা সহজ হয়।
অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে স্টপ স্টার্ট, কেগেলসহ আচরণগত অনুশীলনে উন্নতি দেখা গেছে, তাই ওষুধ ছাড়া শুরু করা অনেকের জন্য যুক্তিসংগত প্রথম ধাপ। তবে সবার জন্য এটি যথেষ্ট নাও হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসক অন্য বিকল্প সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন।
না। বীর্যপাত একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, আর বীর্য আটকে রাখলে শক্তি বাড়ে, এই দাবির জোরালো বৈজ্ঞানিক সমর্থন নেই। সহবাসে বীর্যপাত দেরি করে নিয়ন্ত্রণ শেখা আর বীর্য ধারণ করা এক বিষয় নয়।
সহবাসে বীর্য ধরে রাখার উপায় আসলে আত্মবিশ্বাস, সচেতনতা ও ধারাবাহিক অনুশীলনের সমষ্টি। স্টপ স্টার্ট, স্কুইজ এবং কেগেলের মতো কৌশল নিয়মিত অনুশীলন করলে অনেকেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে স্বস্তি ফিরে পান। রাতারাতি ফলের আশা না করে নিজের শরীরকে সময় দিন। নিজেকে দোষ না দিয়ে শেখার মনোভাব রাখুন, আর প্রয়োজনে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।